গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি
ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নাম এ. কে. এম. শামসুজ্জোহা  
পুরস্কার প্রাপ্তির সাল 2011 
ক্ষেত্র স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ  
 
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এ. কে. এম. শামসুজ্জোহা ১৯২৪ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তাঁর পিতা খান সাহেব এম. ওসমান আলী এবং মাতা জামিলা ওসমান তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন

 

 

১৯৪২ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ স্টুডেন্ট মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক হন এবং ১৯৪৫ সালে শিক্ষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন ১৯৪৯ সালে তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগে সদস্য হিসেবে যোগদান করে দল গঠনে আত্মনিয়োগ করেন ১৯৫২ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ ভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসেবে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এ সময় মিথ্যা মামলায় তাঁকে ১৮ মাস কারাবন্দী রাখা হয় ১৯৬৪ সালে নারায়ণগঞ্জ মহকুমা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনকালে তিনি নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে জীবনের মায়া ত্যাগ করে কাজ করেন

 

 

এ. কে. এম. শামসুজ্জোহা ১৯৭০-এর নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ভ্রমণ করে জনমত গঠন ও তহবিল সংগ্রহে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিনি মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রথম বেতার ভাষণ প্রদান করেন এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনপতাকা উত্তোলন শেষে ঐ দিনই বেগম মুজিব-এর নিকট মুজিবনগর সরকারের বার্তা পৌঁছাতে গিয়ে তিনি পাকিস্তানি চরদের গুলিতে আহত হন স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনি দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করেন ১৯৭৩ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর এলাকা থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর মন্ত্রিত্ব গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাঁকে ১৮ মাস বন্দী রাখা হয়

 

 

১৯৬৬ হতে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সময়ে তিনি প্রথমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নারায়ণগঞ্জ শহর ও পরে নারায়ণগঞ্জ মহকুমা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮১-১৯৮৭ সময়কালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে অসামান্য অবদান রাখেন১৯৮৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন

 

 

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে অনন্যসাধারণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ . কে. এম. শামসুজ্জোহা-কে (মরণোত্তর) ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১১’ প্রদান করা হলো